Article Top Ad

কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদের মৃত্যুতে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মত শোক প্রস্তাব গৃহীত

Reporter

Super Admin

প্রকাশ : ১৪ জুলাই , ২০২৬ ০৭:৫০ পিএম

কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদের মৃত্যুতে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মত শোক প্রস্তাব গৃহীত

কাতারের সাবেক আমির, আধুনিক কাতারের স্থপতি এবং বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির বাবা শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুতে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম শোক প্রস্তাবটি উত্থাপন করলে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে কণ্ঠভোটে তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

In-Article Ad

শোক প্রস্তাবে চিফ হুইপ বলেন, গত ১২ জুলাই, ৭৪ বছর বয়সে শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি ইন্তেকাল করেন। তিনি ছিলেন সমসাময়িক বিশ্বের অন্যতম প্রজ্ঞাবান ও দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক। তাঁর নেতৃত্বে কাতার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জ্বালানি, অবকাঠামো, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করে আধুনিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। এ কারণেই তিনি বিশ্বব্যাপী ‘আধুনিক কাতারের স্থপতি’ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।

তিনি বলেন, শেখ হামাদের দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে। বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান, দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক উন্নয়নে তাঁর অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

চিফ হুইপ আরও বলেন, সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকটের সময় কাতার নিজ দেশে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করলেও বাংলাদেশের শ্রমিক-কর্মচারীদের পাশে দাঁড়িয়েছে। হরমুজ প্রণালী সংকটের সময় বাংলাদেশি নাবিকদের প্রতিও দেশটি মানবিক সহায়তা প্রদান করেছে। এ মানবিক ভূমিকার জন্য বাংলাদেশ কাতারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে।

শোক প্রস্তাবে জাতীয় সংসদ মরহুমের রুহের মাগফিরাত ও চিরশান্তি কামনা করে এবং বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি, কাতারের রাজপরিবার, সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা ও আন্তরিক সহমর্মিতা জানায়।

চিফ হুইপ আগামীকাল দেশে রাষ্ট্রীয় শোক পালনের পাশাপাশি জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার সুপারিশ করেন। একই সঙ্গে শোক প্রস্তাবের একটি প্রত্যায়িত অনুলিপি কাতারের জাতীয় পরিষদ ‘শূরা কাউন্সিল’, বাংলাদেশে কাতার দূতাবাস এবং কাতার সরকারের কাছে যথাযথ মাধ্যমে পাঠানোর প্রস্তাব করা হয়।

পরে ডেপুটি স্পিকার শোক প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে দিলে সংসদ সদস্যরা সমস্বরে তাতে সমর্থন জানান। তিনি শোক প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে বলে ঘোষণা দেন।

শোক প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর গাইবান্ধা-৪ আসনের সরকারি দলের সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন।