বৈষম্য দূর করে একটি মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান'র নির্দেশে পরীক্ষামূলক পর্যায়ের জন্য দেশের ১৪টি উপজেলাকে নির্বাচিত করে ফ্যামিলি কার্ডের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকার প্রতারক চক্র গ্রামের দরিদ্র সহজ সরল নিরক্ষর মানুষকে ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার লোভে ফেলে ফ্যামিলি কার্ডের ভূয়া আবেদনের নামে প্রতারণা শুরু করেছে; যা জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার-প্রকাশ হতে দেখা যাচ্ছে।
হয়তোবা প্রতারণার অংশ হিসেবে প্রতারক চক্র শেরপুরের নকলা উপজেলাতেও ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণা শুরু করেছে। যা অজ্ঞাত কোন একজন নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহাঙ্গীর আলমকে একটি খুদে বার্তার মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়েছেন। ইউএনও বিষয়টি গুরুত্বের সহিত আমলে নিয়ে প্রতারক চক্রের কবল থেকে সাধরণ জনগণকে রক্ষা করতে ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ফেসবুকে (Uno Nakla Sherpur) নামের আইডিতে পরামর্শমূলক কিছু কথা লিখিত আকারে পোস্ট করেন। পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো--
“সম্মানিত নকলাবাসী, আসসালামু আলাইকুম। ফ্যামিলি কার্ড প্রতারক চক্র থেকে সাবধান! নিচের মেসেজটি একজন পাঠিয়েছেন। ‘আমাদের এলাকায় একজন কম্পিউটার দোকানদার ফ্যামিলি কার্ডের ভূয়া আবেদন করে ২০০/৩০০ টাকা নিচ্ছে এলাকার গরিব অসহায় মানুষদের কাছ থেকে।’ সকলের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, নকলা উপজেলায় এ মুহূর্তে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান বা আবেদন গ্রহণ সংক্রান্ত কোনো কার্যক্রম চলমান নেই। এ বিষয়ে প্রতারক চক্র থেকে সাবধান থাকা প্রয়োজন।
ইতোপূর্বেও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে। আমাদের যার যার অবস্থান থেকে আশেপাশের লোকজনকে সতর্ক করা প্রয়োজন। সরকারিভাবে নির্দেশনা পেলে উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম শুরু হবে এবং উপজেলার সর্বস্তরের জনগণকে বিষয়টি যথাসময়ে জানানো হবে।”
উল্লেখ্য, ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের জন্য পরীক্ষামূলক পর্যায়ের দেশের যে ১৪টি এলাকা নির্বাচিত করা হয়েছে সেগুলো হলো: বনানী এলাকার আওতাধীন কড়াইল, সাততলা ও ভাষানটেক বস্তি; মিরপুর শাহ আলী এলাকার আলী মিয়ার টেক ও বাগানবাড়ি বস্তি; রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা; চট্টগ্রামের পতেঙ্গা উপজেলা; ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা; বান্দরবানের লামা উপজেলা; খুলনার খালিশপুর উপজেলা; ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা; সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা; কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা; বগুড়ার সদর উপজেলা; নাটোরের লালপুর উপজেলা; ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা। তথ্য মতে, জুন মাসের মধ্যে এসব এলাকার তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষ হবে এবং ৪০ হাজার সুবিধাভোগী পরিবার নির্বাচন করা হবে।
খেলাধুলা